কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর প্রথম কলকাতা ডার্বিতে মুখোমুখি হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সাহাল আব্দুল সামাদের করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সবুজ-মেরুন শিবির। মরসুমের প্রথম ডার্বিতেই জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল মোহনবাগান।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। তবে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় প্রথমার্ধে গোলশূন্যই শেষ হয় খেলা। অন্যদিকে নতুন কোচ আন্তোনিও হাবাসের অধীনে প্রায় সম্পূর্ণ নতুন দল নিয়ে নামা ইস্টবেঙ্গলকে শুরুতে কিছুটা অগোছালো দেখায়। মিস পাস, সমন্বয়ের অভাব এবং ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতি দুই দলের খেলাতেই স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচের ৫২তম মিনিটে আসে নির্ণায়ক মুহূর্ত। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিয়ান নাসিরির তৈরি আক্রমণে মনবীর সিংহ বল বাড়িয়ে দেন সাহাল আব্দুল সামাদের উদ্দেশে। দুর্দান্ত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন সাহাল। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
গোল হজম করার পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে একের পর এক পরিবর্তন আনে ইস্টবেঙ্গল। শেষ ১৫ মিনিটে লাল-হলুদ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি। রশিদ দুটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হাতছাড়া করায় সমতায় ফেরার আশা শেষ হয়ে যায়।
এই ডার্বি আবারও ভারতীয় ফুটবলে প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনে দিল। পর্যাপ্ত প্রাক-মৌসুম অনুশীলনের অভাব, নতুন কোচ, নতুন ফুটবলার এবং সীমিত সময়ের প্রস্তুতির প্রভাব দুই দলের খেলাতেই স্পষ্ট ছিল। ফলে প্রত্যাশিত মানের ফুটবল দেখা যায়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতে দুই দলই প্রথম একাদশে কোনও বিদেশি ফুটবলারকে খেলায়নি। বিদেশি ফুটবলারদের নিবন্ধন, ভিসা ও এনওসি-সংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি ফুটবল ক্যালেন্ডার নিয়ে পরিকল্পনার অভাবও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে মোহনবাগানের জয় নিশ্চিত হলেও ম্যাচের মান প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে কলকাতা ডার্বির চিরচেনা আবেগ, উত্তেজনা এবং গ্যালারির উন্মাদনা আবারও প্রমাণ করল—ফল যাই হোক, ডার্বির আবেদন কখনও কমে না।
