মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফের স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক। এবার হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই রোগী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন। বিজেপি-র স্বাস্থ্য বিভাগ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি এই হাসপাতালেই স্যালাইন সংক্রান্ত ঘটনায় দুই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এবার মৃত্যু না ঘটলেও, ফের স্যালাইন সংক্রান্ত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো।
জানা গেছে, মেদিনীপুর শহরের নতুন বাজারের বিদ্যাসাগর পল্লির বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী মানসী দে শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে গত ৫ জুলাই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। অসুস্থ মানসী দেবীর ছেলে বিশ্বজিৎ অভিযোগ করেন, ভর্তির পর থেকেই তাঁর মাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছিল। আজ বিকেলে হঠাৎ তাঁর মা বুকে জ্বালা অনুভব করার কথা জানান। এরপর ব্যবহৃত স্যালাইনের বোতলটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, যে 'ডেক্সরেস' (Dexres) স্যালাইনটি দেওয়া হচ্ছিল, তার মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসেই শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সদের জানালে তাঁরা বলেন, হাসপাতালের সব রোগীর ক্ষেত্রে মেয়াদ দেখে ওষুধ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর স্যালাইনটি যেখান থেকে আনা হয়েছিল, সেখানে গিয়ে দেখা যায় আরও বেশ কয়েকটি বোতলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে কীভাবে রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে—সেই প্রশ্ন তুলে রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালের সুপার এবং মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ইন্দ্রনীল সেনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।
পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ঘটনাটি সত্য; আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন প্রয়োগের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ মানসী দেবীর ছেলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানসীর ছেলে বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, আজ স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল আসার আগে তাঁদের বলা হয়েছিল যে, সাংবাদিকরা যদি মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানতে চান, তবে যেন বলা হয়—রোগী আগের চেয়ে অনেক স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। তাঁর ধারণা, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসুন—এটাই তাঁর চাওয়া। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কেবল নার্সরাই নন, হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের অনেকেই জড়িত রয়েছেন। তাঁরা পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
