দেশের বিশিষ্ট উদ্ভাবক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক আজ আবারও এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক ও পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। লাদাখের পরিবেশ রক্ষা এবং সেখানকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে একাধিকবার অনশন ও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে NEET-সহ একাধিক সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে NTA-র ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে NTA পুনর্গঠন বা বাতিল এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে CJP-র উদ্যোগে দিল্লির যন্তর-মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলন'কে সমর্থন জানিয়ে সরকার পক্ষের নীরবতার প্রতিবাদে সোনম ওয়াংচুক আমরণ অনশনে বসেন। অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বহু নাগরিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
একটি গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। সেই কারণেই আন্দোলনের প্রতি প্রশাসনের সংবেদনশীল মনোভাব এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ প্রত্যাশিত। মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধান হওয়া উচিত সংলাপ, যুক্তি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
সোনম ওয়াংচুক শুধু একজন আন্দোলনকারী নন; তিনি একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত উদ্ভাবক, যাঁর গবেষণা, শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান দেশ-বিদেশে স্বীকৃত। তাঁর অভিজ্ঞতা ও কাজ ভবিষ্যতেও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই তাঁর জীবন ও সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আমাদের আবেদন, সরকার দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নিক। একই সঙ্গে সোনম ওয়াংচুকের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। গণতন্ত্রে সংলাপই হওয়া উচিত সংকট নিরসনের প্রধান পথ।
