স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের

 




বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। স্পিকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর সংবিধান অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর ফলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের বরাতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তাঁর Autonomic Neuropathy ধরা পড়ে, যার ফলে তিনি মাঝে মধ্যেই অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই বিধান অনুসারেই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এখন নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাকেই পদত্যাগের একমাত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবুও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সবার নজর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপের দিকে।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال