কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ধাক্কা সামলে শেষ মুহূর্তে জিতল আর্জেন্টিনা, প্রি-কোয়ার্টারে মিশরের মুখোমুখি মেসিরা


নতুন দলকে হারাতে রীতিমতো ঘাম ছুটল লিওনেল মেসিদের। এ বারের ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা পাওয়া কেপ ভার্দে এমন লড়াই উপহার দিল, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে একের পর এক চাপে ফেলে, বারবার সমতায় ফিরিয়ে এনে তারা বুঝিয়ে দিল—ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানাতে তারা তৈরি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে কোনওমতে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। আর সেই জয়ের সুবাদে এবার প্রি-কোয়ার্টারে মিশরের মুখোমুখি হতে চলেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

এ বছরই প্রথমবার ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করে কেপ ভার্দে। তাদের পাশাপাশি উজবেকিস্তান ও জর্ডানের মতো দেশও এবারের আসরে অভিষেক ঘটায়। তবে নতুন দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কেপ ভার্দেই। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাহসী ফুটবল খেলেছে তারা। সেই ধারাই বজায় থাকল আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও। ভাগ্য একটু সহায় হলে হয়তো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আরও বড় ধাক্কা দিত কেপ ভার্দে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞতার জোরে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেয় আর্জেন্টিনা।

শনিবারের ম্যাচের শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বল দখল, পাল্টা আক্রমণ, মাঝমাঠের লড়াই—সব ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনাকে সমানে সমানে টেক্কা দিচ্ছিল তারা। তবু ২৯ মিনিটে প্রথম আঘাত হানে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির গোলেই এগিয়ে যায় গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই গোলেই যেন আরও মরিয়া হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। গোল শোধ করার লক্ষ্যে তারা একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনার রক্ষণে।

তারই ফল মেলে ৫৯ মিনিটে। আর্জেন্টিনার শক্ত রক্ষণ ভেঙে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। এরপর ম্যাচ যত এগোয়, ততই চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ লগ্নে, ৯২ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় মেসির দল। এবার গোলটি আসে মার্টিনেজের পা থেকে। মনে হচ্ছিল, এই গোলেই হয়তো ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। কিন্তু তাতেও হার মানেনি কেপ ভার্দে। দুরন্ত লড়াই চালিয়ে আবারও সমতায় ফিরে আসে তারা। তাতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়েও নাটক কমেনি। ১২০ মিনিটের মাথায় অবশেষে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়। মেসির ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে হেড করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। সেই বল প্রতিপক্ষ ফুটবলার ডিনির গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ভাগ্যের কিছুটা সহায়তা পেলেও, শেষ পর্যন্ত সেই গোলই আর্জেন্টিনাকে জয়ের স্বস্তি এনে দেয়।

তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের থেকেও বেশি আলোচনায় কেপ ভার্দের লড়াই। মাত্র পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার একটি দেশ, অথচ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে তাদের ফুটবল ছিল ভয়হীন, সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই তারা যে বার্তা দিল, তা ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বড় মঞ্চে সুযোগ পেলে ছোট দেশও যে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে, কেপ ভার্দে তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইল।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টে এখনও অপরাজিত। শুরু থেকে ধারাবাহিক লড়াই করে আসছে মেসিরা। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য একটাই—আবারও বিশ্বকাপ জিতে ট্রফির সংখ্যা বাড়ানো। তবে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে এই কঠিন ম্যাচ তাদের বুঝিয়ে দিল, নকআউট পর্বে কোনও প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এবার প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৭ জুলাই, ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় মাঠে নামবে দুই দল। মেসিদের সামনে লক্ষ্য এখন একটাই—এই বাধা পেরিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال