সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনায় অমিত শাহ, ৭৭ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন

 


পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়ি সংলগ্ন জুমাগাছ সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, নজরদারি ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন তিনি বিএসএফের জন্য মোট ৭৭ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা ও উদ্বোধন করেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী, সাংসদ এবং বিধায়কেরা।

জুমাগাছ সীমান্ত চৌকির বিপরীতে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অবস্থিত। এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ পরিচালিত হয়। কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জুমাগাছ সীমান্ত চৌকি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মোট ১৪টি সীমান্ত চৌকিতে স্মার্ট ফেন্সিং ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় কাঁটাতারের বেড়ায় কোনও ধরনের স্পর্শ বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের 'চিকেন নেক' করিডরের ভৌগোলিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পে গতি এসেছে। বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজও রাজ্য সরকার পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। পাশাপাশি অসম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার সঙ্গেও বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি হাতে পাওয়ায় সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال