বাংলায় ইউসিসি বিলের প্রস্তুতি: কী বলছে আইন, কী বদলাতে পারে?


টিপিএফ বাংলা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনেই ইউসিসি বিল পেশ করা হতে পারে। বিলটি আইনে পরিণত হলে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, দত্তক গ্রহণ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি বণ্টনের মতো ব্যক্তিগত দেওয়ানি বিষয়ে ধর্মভিত্তিক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইন কার্যকর করার পথ খুলে যাবে।

ভারতে বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক পার্সোনাল ল বা ব্যক্তিগত আইন কার্যকর রয়েছে। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পারসি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের নিয়ম আলাদা। ইউসিসির মূল উদ্দেশ্য হল, ধর্ম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এসব বিষয়ে একই আইনি কাঠামো প্রযোজ্য করা। এই প্রসঙ্গে ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৪-এর উল্লেখ করা হয়। সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের উচিত দেশের নাগরিকদের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রবর্তনের চেষ্টা করা। যদিও এটি আদালতে বলবৎযোগ্য মৌলিক অধিকার নয়, তবুও সংসদ বা রাজ্যের আইনসভা প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে এটি কার্যকর করতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউসিসি কার্যকর হলে বিবাহের ন্যূনতম বয়স, বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি, ভরণপোষণের অধিকার, দত্তক গ্রহণের নিয়ম এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধানে অভিন্নতা আসতে পারে। তবে ফৌজদারি আইন বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। ইউসিসি কেবল দেওয়ানি বা ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারী-পুরুষের মধ্যে আইনি বৈষম্য দূর করা। অন্যদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত আইন ও ঐতিহ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। এদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সংবিধানসম্মত সুরক্ষা পাওয়া তফসিলি উপজাতিদের (এসটি) ঐতিহ্য ও বিশেষ অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ফলে ইউসিসির চূড়ান্ত খসড়ায় কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

এখন নজর বিধানসভার দিকে। বিলটি পেশ হচ্ছে কি―না, তারপর  তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে, ইউসিসি বিল পাস হলে পশ্চিমবঙ্গের ব্যক্তিগত দেওয়ানি আইন ব্যবস্থায় তা একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال